সীমিত আয়, কঠিন বাস্তবতা সবকিছুকে জয় করে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার সরতাজ বাহেরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল মোঃ মমরোজ আলী (৭২) আজ এক অনন্য প্রেরণার নাম। স্ত্রী মোছাঃ আনোয়ারা বেগম (৬৫)-কে সঙ্গে নিয়ে তিনি চার ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন মমরোজ আলী। মাস শেষে হাতে পাওয়া সামান্য বেতন নিজের জন্য না রেখে পাঠাতেন বাড়িতে। সেই টাকা দিয়েই সংসার সামলাতেন তাঁর সহধর্মিণী। সুপরিকল্পিতভাবে খরচ বাঁচিয়ে তিনি সন্তানদের পড়াশোনায় ব্যয় করতেন।
অবসরপ্রাপ্ত মমরোজ আলী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,“আমি গর্বিত বাবা। সামান্য টাকায় চার ছেলেকে মানুষ করতে পেরেছি। তারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আমাদের খোঁজখবর রাখে—এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।”
চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আনোয়ারুল হক মঞ্জু বর্তমানে সিটিজেনস্ ব্যাংকে প্রিন্সিপাল অফিসার। দ্বিতীয় ছেলে আলমগীর হোসেন রানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক। তৃতীয় ছেলে আলীমুল রেজা রনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে অনার্স-মাস্টার্স শেষে বর্তমানে ইউরোপের ক্রোয়েশিয়ায় কর্মরত। আর ছোট ছেলে আজমাল হোসেন রবিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স-মাস্টার্স করে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টারে কর্মরত রয়েছেন।
মোছাঃ আনোয়ারা বেগম বলেন,“সন্তানদের মানুষ করতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আল্লাহর রহমতে সেই কষ্টের ফল আজ আমরা হাতে পেয়েছি।”
পাশের গ্রামের প্রবীণ শিক্ষক আব্দুল হাই মন্তব্য করেন,“মমরোজ আলী সত্যিই ভাগ্যবান বাবা। সীমিত আয়ে চার সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয় তিনি তার জীবনে সেটিই প্রমাণ করেছেন।”
প্রতিবছর ঈদের সময় চার ছেলে-সন্তান পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরলে গ্রামজুড়ে চলে আনন্দ-উৎসব। খুশির রঙে ভরে ওঠে চারপাশ। সামান্য আয়েও দৃঢ় মনোবল ও ত্যাগের মাধ্যমে সন্তানদের জীবন গড়ে তোলার এই গল্প আজ সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।


















