নয়া কাগজ
শনিবার , ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. আইন ও আদালত
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য
  8. ক্যাম্পাস
  9. গণমাধ্যম
  10. গ্ৰামের কাগজ
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম ও জীবন
  13. বিনোদন
  14. বিভাগীয় খবর
  15. ভাইরাল

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস—২০২৬ প্রতিপাদ্য ‘বহুভাষিক শিক্ষায় তরুণদের কণ্ঠস্বর’ –সফিউল্লাহ আনসারী

প্রতিবেদক
দৈনিক নয়া কাগজ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ৮:০২ পূর্বাহ্ণ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস—২০২৬ প্রতিপাদ্য
‘বহুভাষিক শিক্ষায় তরুণদের কণ্ঠস্বর’
সফিউল্লাহ আনসারী

একুশে ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা আন্দোলনের মহিমান্বিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষায় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে তরুণ প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দিতে ‘বহুভাষিক শিক্ষায় তরুণদের কণ্ঠস্বর’ এ বছরের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। দিনটি মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে এবং ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং বাংলা ভাষাকে বিশ্বের দরবারে সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ করে উপস্থাপন করে।

একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের ভাষার মর্যাদা, সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় এবং মানবিক অধিকারের প্রতীক। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও বহুভাষিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘বহুভাষিক শিক্ষায় তরুণদের কণ্ঠস্বর’ সময়ের দাবি ও ভবিষ্যতের দিশা উভয়কেই ধারণ করে।
ভাষা মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও পরিচয়ের প্রধান বাহন। মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণ শিশু ও তরুণদের শেখার ভিত্তি মজবুত করে, তাদের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন সহজ করে এবং অন্য ভাষা শেখার সক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। অথচ বৈশ্বিকায়নের চাপে বহু ভাষা আজ বিলুপ্তির পথে, আর শিক্ষাব্যবস্থায় প্রাধান্য পাচ্ছে কিছু প্রভাবশালী ভাষা। এতে স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতি ক্রমশ প্রান্তিক হয়ে পড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণরাই ভবিষ্যতের নির্মাতা, তারাই ভাষা ও সংস্কৃতির ধারক-বাহক। প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা আজ ভাষার নতুন রূপ নির্মাণ করছে লিখছে কবিতা, গান, গল্প; তৈরি করছে ভিডিও, ব্লগ ও পডকাস্ট। বহুভাষিক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের এই সৃজনশীল শক্তিকে বিকশিত করা গেলে সমাজ পাবে বৈচিত্র্যময় জ্ঞানভিত্তিক মানবসম্পদ।
বাংলাদেশের মতো বহুভাষিক দেশে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলা রাষ্ট্রভাষা হলেও এখানে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বহু ভাষা রয়েছে চাকমা, মারমা, সাঁওতালি, গারোসহ আরও অসংখ্য ভাষা। এসব ভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত করা মানবাধিকার সমুন্নত করা এবং জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশর্ত। তরুণদের মাতৃভাষায় শিক্ষা দিলে তারা নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থেকে আধুনিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে, যা সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সমতার পথ প্রশস্ত করবে।
তবে বহুভাষিক শিক্ষা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জও কম নয়। শিক্ষকের অভাব, পাঠ্যপুস্তকের সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সীমাবদ্ধতা এই পথে বাধা সৃষ্টি করে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক ও তরুণ সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তরুণদের উচিত নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করা, গবেষণা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভাষাকে সমৃদ্ধ করা এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে বহুভাষিক শিক্ষার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ভাষার মর্যাদা মানে মানুষের মর্যাদা, জাতির ভাষাগত ঐতিহ্য। বহুভাষিক শিক্ষায় তরুণদের কণ্ঠস্বর একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈচিত্র্যময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা। একুশের চেতনা স্মৃতিতে শিক্ষানীতিতে ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হোক এই হোক আমাদের লক্ষ্য।
একটি জাতির ভাষা কেবল তাদের যোগাযোগের মাধ্যম নয় এটি অস্তিত্ব, চেতনা, মাতৃভাষা চর্চার ধারাবাহিকতা, শহীদ স্মৃতি ও ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন। বহুভাষিক শিক্ষায় তরুণদের কণ্ঠস্বর যুক্ত করার মাধ্যমে তাদের চিন্তা, স্বপ্ন ও পরিচয়কে মর্যাদা দেওয়া। মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা তরুণদের আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে এবং বহুভাষিক দক্ষতা তাদের বিশ্বজনীন করে তোলে। মাতৃভাষা দিবসের আহ্বান হওয়া উচিত প্রতিটি ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখা, প্রতিটি তরুণকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া এবং বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য গড়ে তোলা। একুশের আত্মত্যাগের উত্তরাধিকার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, ভাষার মর্যাদা রক্ষা করে এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা নির্মাণ করা, যেখানে তরুণদের কণ্ঠস্বরই হবে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশক। ভাষার বৈচিত্র্যকে সম্মান করে গড়ে ওঠা শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে। তাই তরুণদের কণ্ঠস্বর শোনা, তাদের ভাষাকে মর্যাদা দেওয়া এটাই একুশের চেতনার প্রকৃত বাস্তবায়ন।

#

সফিউল্লাহ আনসারী
কবি- গণমাধ্যমকর্মী

 

সর্বশেষ - বিভাগীয় খবর