নয়া কাগজ
বৃহস্পতিবার , ৩০ নভেম্বর ২০২৩ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. আইন ও আদালত
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য
  8. ক্যাম্পাস
  9. গণমাধ্যম
  10. গ্ৰামের কাগজ
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম ও জীবন
  13. বিনোদন
  14. বিভাগীয় খবর
  15. ভাইরাল

আল্লাহর ভালোবাসা মেলে যেভাবে

প্রতিবেদক
দৈনিক নয়া কাগজ
নভেম্বর ৩০, ২০২৩ ৮:১২ অপরাহ্ণ

আল্লাহ প্রতি শ্রদ্ধা: ভালোবাসা মহান আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টি। প্রেম-ভালোবাসা ও আবেগ-অনুরাগ মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। আল্লাহর অনন্য সৃষ্টির মতো ভালোবাসাও একটি নির্বিরোধ ও দ্বৈত বিষয়। ধারালো ছুরি যেমন উপকার-ক্ষতি দুই কাজই করা যায়, আগুন যেমন রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয় আবার অগ্নিদুর্ঘটনাও ঘটায়, তেমনি ভালোবাসা কখনো পাপের পথে ব্যবহৃত হয়, কখনো পুণ্যের পথে ব্যবহৃত হয়। মুমিনের ভালোবাসা হবে বৈধ ক্ষেত্রে ও বৈধ উপায়ে। মুমিন কখনো হারাম ভালোবাসায় জড়াবে না। কল্যাণময় ভালোবাসার অন্যতম ক্ষেত্র হচ্ছে মহান আল্লাহর ভালোবাসা। প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের হৃদয়ে মহান আল্লাহর প্রেম-ভালোবাসা থাকা জরুরি। কম-বেশি সবাই মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা লালন করে, তাঁর ভালোবাসা অর্জন করতে উদগ্রীব। তবে কীভাবে, কোন কাজ করলে মহান আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন হয়, তা অনেকেই জানে না। এখানে এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করা হলো।

মৃত্যুর স্মরণ : মৃত্যু এমন এক সত্য যা একদিন মানুষকে আলিঙ্গন করবেই। পৃথিবীর রং-রসে মেতে মৃত্যুকে হয়তো ভুলে থাকা যায়, কিন্তু মৃত্যুকে এড়ানো বা মৃত্যু থেকে পালিয়ে বাঁচা যায় না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবে, যদিও তোমরা সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করো’ (সুরা নিসা : ৭৫)। তাই তো যাপিত জীবনে ছোট-বড়, ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধর্ম-বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ বিনা বাক্যে মৃত্যুর কথা মেনে নেয় ও বিশ্বাস করে। মৃত্যুর এই বোধ ও অবিশ্বাস মানুষ বাস্তবতা থেকেই অর্জন করেছে। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো, মৃত্যুর কথা ও মৃত্যু-পরবর্তী জীবন নিয়ে সদা-সর্বদা চিন্তা-ফিকির করা। মৃত্যুর স্মরণ মানুষের ঈমানে-আমলে ও চিন্তা-চেতনায় প্রভাব ফেলে। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুর স্মরণের জন্য উম্মতকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তা ছাড়া মৃত্যুর স্মরণের মাধ্যমে মহান আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন হয়। এ ব্যাপারে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বেশি বেশি করে স্বাদ হরণকারী বিষয় তথা মৃত্যুর স্মরণ করো’ (ইবনে মাজা : ৪২৫৮)। অন্য এক হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহ তায়ালা তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন’ (বুখারি : ৬০০২)। আরেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মৃত্যু মুমিনের জন্য উপঢৌকনস্বরূপ।’ (শুআবুল ঈমান : ৯৭৭৩)

ভালোবাসা আল্লাহর জন্য হওয়া : দুনিয়ার যাবতীয় সব কাজ ও সব বস্তুর ভালোবাসা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার প্রেম-ভালোবাসার জন্য হওয়া। এ ব্যাপারে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যারা আমার মহব্বত লাভের উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসে, আমার উদ্দেশ্যে সভা-সমাবেশে উপস্থিত হয়, আমার উদ্দেশ্যে পরস্পরে দেখা-সাক্ষাৎ করে, আর আমার ভালোবাসা অর্জনের জন্য খরচ করে, তাদের জন্য আমার মহব্বত ও ভালোবাসা অবধারিত’ (তিরমিজি : ২৩৯০)। অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসে, তাঁর জন্যই কারও সঙ্গে দূরত্ব স্থাপন করে, তাঁর জন্যই দান করে এবং তাঁর উদ্দেশেই দান থেকে বিরত থাকে, সে তাঁর ঈমানকে পরিপূর্ণ করে।’ (আবু দাউদ :৪৬৮১)

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা : সামাজিক জীবনে আত্মীয়স্বজন অনিবার্য অবলম্বন। আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ছাড়া স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে আত্মীয়তার প্রভাব ব্যাপক। এ জন্য ইসলাম আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার জোরালো নির্দেশ দিয়েছে। এ ব্যাপারে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমার সঙ্গে যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, তুমি তার সঙ্গে তা বজায় রাখো, তোমাকে যে বঞ্চিত করেছে, তুমি তাকে প্রদান করো এবং যে তোমার প্রতি অন্যায় করেছে, তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও।’ (মুসনাদে আহমদ : ১৭৪৫২)

আল্লাহর নেয়ামত চিন্তা করা : পবিত্র কুরআনের বিশাল অংশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে মহান আল্লাহর নানাবিধ নেয়ামতের বিস্তারিত বিবরণ। মহান আল্লাহ মানবজাতিকে সর্বোত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করে তাদের অসংখ্য-অগণিত নেয়ামত দান করেছেন। পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেও সেসব নেয়ামত গণনা করে শেষ করতে পারবে না। নেয়ামতের কথা চিন্তা করলে প্রত্যেক ব্যক্তি প্রথমে নিজের দেহের কথাই ভাবতে পারে। রাব্বুল আলামিন তাঁর মহা-অনুগ্রহে মানুষের দেহে যে প্রাণ সঞ্চার করেছেন সেটিও বড় একটি নিয়ামত। দেহের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, শিরা-উপশিরায় নেয়ামত আর নেয়ামত। মানুষের আপাদমস্তক পুরোটাই মহান রবের মহানেয়ামতে ভরপুর। উপরন্তু আকার-আকৃতি, জ্ঞান-বুদ্ধি, সুস্থতা-অসুস্থতা, ঘরবাড়ি, সন্তান-সন্ততি, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন, ইজ্জত-সম্মান ইত্যাদি বিচিত্র নেয়ামত বান্দাকে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের অস্তিত্বের প্রতি লক্ষ করেও তোমরা অনুধাবন করতে পারো না’ (সুরা যারিয়াত : ২১)। এভাবে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য অসংখ্য নেয়ামত দান করছেন। এমন অনেক নেয়ামত রয়েছে, যার কথা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। সেই ঘোষণাও আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন পবিত্র কুরআনে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কি লক্ষ করোনি, আকাশম-লী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, আল্লাহ সেগুলোকে তোমাদের কাজে নিয়োজিত রেখেছেন এবং তিনি তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতগুলো তোমাদের প্রতি পরিপূর্ণভাবে বর্ষণ করেছেন।’

আমরা যখন আমাদের যাপিত জীবনে মহান আল্লাহ তায়ালার এত বিপুলসংখ্যক নেয়ামত নিয়ে চিন্তাভাবনা করব, তখন আল্লাহ তায়ালার মহব্বত-ভালোবাসা আমাদের অন্তরে বৃদ্ধি পাবে। এ জন্য আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোনো নেয়ামতকে অস্বীকার করবে’ (সুরা আর-রহমান : ১৩)। অতএব প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের উচিত এসব বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে মহান আল্লাহর পবিত্র ভালোবাসা অর্জন করা।

সর্বশেষ - বিভাগীয় খবর

আপনার জন্য নির্বাচিত