নয়া কাগজ
মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. আইন ও আদালত
  4. আর্ন্তজাতিক
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য
  8. ক্যাম্পাস
  9. গণমাধ্যম
  10. গ্ৰামের কাগজ
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম ও জীবন
  13. বিনোদন
  14. বিভাগীয় খবর
  15. ভাইরাল

ঈশ্বরগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমিতে ভবন নির্মাণ,  আড়াই বছরের শিশুর মাকে জেল

প্রতিবেদক
দৈনিক নয়া কাগজ
এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ৫:৩৭ অপরাহ্ণ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার (ইউআইটিআরসিই-২) ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিরোধপূর্ণ জমিতে ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একজন আড়াই বছর বয়সী এক শিশুর মা হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমানের উপস্থিতিতে এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেনের পরিবারের দাবি, প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ জমির মধ্যে সাড়ে ৪ শতাংশ জমি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি, যেখানে তাদের পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। এই মালিকানা নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান।

মাসুদ আল নোমান জানান, “আমরা জনস্বার্থে উন্নয়ন চাই, কিন্তু পৈতৃক জমি ও কবরস্থান জোরপূর্বক দখল করে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। ইউএনও মহোদয় পুলিশ দিয়ে আমার স্ত্রী সুমা আক্তার ও আত্মীয় ফাতেমা তুজ জহুরাকে ধরে নিয়ে গেছেন। সুমার আড়াই বছরের ছোট একটি সন্তান রয়েছে।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস জানান, বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী ১ একর ৭৪ শতাংশ জমি উপজেলা পরিষদের। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও একটি পক্ষ বেআইনিভাবে সরকারি কাজে বাধা দিচ্ছিল বলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সাইট ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক রঞ্জন সরকার জানান, কাজ করতে গিয়ে তারা বারবার মারধর ও বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। বিষয়টি প্রশাসন ও পুলিশকে জানানোর পর তিনি নিজে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই নারী হলেন- আব্দুল্লাহ আল নোমানের স্ত্রী সুমা আক্তার (২৬) এবং মকবুল হাসানের স্ত্রী ফাতেমা তুজ জহুরা (৪০)। পুলিশ জানায়, ঠিকাদারের দায়ের করা সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আদালতে বিচারাধীন জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একজন দুগ্ধপোষ্য শিশুর মাকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় জনমনে প্রশাসনের এমন হার্ডলাইন ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আযম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ - বিভাগীয় খবর