ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়ায় এক রিকশাচালক বাবাকে প্রকাশ্যে মারধর ও লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ করেছিল তার কিশোর ছেলে। সেই ঘটনার জেরে তাকে মিথ্যা ‘চাঁদাবাজ’ বানিয়ে হাতে খেলনা পিস্তল ধরিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক পরিবারের বিরুদ্ধে। এতে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ঈদের আগের দিন (৭ জুন) জামিরদিয়ার বাদশা টেক্সটাইল মিলের ২ নম্বর গেট এলাকায় রিকশাচালক সাইফুল ইসলাম স্থানীয় এক নারী যাত্রী—আল আমিনের স্ত্রীকে—গন্তব্যে না নেওয়ায় আল আমিন, তার ভাই শামীম ও মেহেদী হাসান প্রকাশ্যে সাইফুলকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে সাইফুলের ছেলে সিফাত, তার দুই সহপাঠীকে (সাদিকুল ও আরেকজন) নিয়ে ১৩ জুন শুক্রবার মেহেদীদের দোকানে যান। সেখানে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সিফাত দোকানের শোকেজে লাথি মারে। তখন মেহেদী ও তার ভাইয়েরা মিলে তাদের ঝাপটে ধরে দোকানে থাকা একটি খেলনা পিস্তল তাদের হাতে ধরিয়ে দেন এবং “ডাকাত ডাকাত” বলে চিৎকার শুরু করেন।
এ সময় পাশের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই দোকানদারপক্ষ সেনাবাহিনী ক্যাম্পে ফোন করে। সেনা সদস্যরা দ্রুত এসে দুই কিশোরকে আটক করে ভালুকা মডেল থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পরবর্তীতে দোকানদার মেহেদী হাসান বাদী হয়ে সিফাত ও সাদিকুলের বিরুদ্ধে পিস্তল দেখিয়ে চাঁদা দাবি এবং দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করেন।
সিফাতের বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাকে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। ছেলে প্রতিবাদ করতেই তাকে ফাঁসানো হয়েছে। খেলনা পিস্তলটি দোকান থেকেই তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন বলেন, সিফাত ও সাদিকুল শান্ত ও ভদ্র ছেলে। তারা কোনোদিন এমন অপরাধে জড়ায়নি। ঘটনাটি পুরোপুরি সাজানো। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
অন্যদিকে দোকানদার মেহেদী হাসান দাবি করেন, তারা আমার দোকানে এসে গ্লাস ভাঙে এবং পিস্তল রেখে ভয় দেখায়। তাই আমরা তাদের আটক করে সেনাবাহিনীর হাতে দেই।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে মামলা গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিশোরদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাদের গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


















