বছর শেষের ভাবনা নতুন বছরের স্বপ্ন
সফিউল্লাহ আনসারী
প্রকৃতির নিয়মে সব কিছুর শুরুর সঙ্গেই রয়েছে শেষ হয়ে যাওয়ার নিয়ম । আবার নতুনের আগমনে আসে পুরোনোর বিদায়ের মূহুর্ত।এরই ধারাবাহিকতায় কিছু কিছু শেষ হয়ে যাওয়া আমাদের জন্য নতুনের বার্তা নিয়ে আসে। নতুন বছর ঠিক তেমনিভাবে আগমন ঘটে নতুন দিনের সম্ভাবনা নিয়ে। আমাদের জীবন সংসারের অন্যান্য বিষয়ের মতোই নতুন বছরের আগমন ঘটে স্বপ্ন আর নব প্রত্যাশায়। শুরুটা স্বপ্ন আর প্রত্যাশার হলেও শেষটা অনেক সময় পাওয়া-না পাওয়ার হতাশায় মোড়ানো থেকে যায়। পাওয়া আর হারানোর মেলবন্ধনে দিন যায়, মাস যায়, বছর যায় সময়ের নিয়মতান্ত্রিকতায়।বছরের শেষ থেকে নতুন দিনের শুরু নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনা দেখায় নতুন পথ।
সময়ের ধারাবাহিকতায় চলে যাচ্ছে আরো একটি সাল, চলে যাচ্ছে ২০২৪। আমরা চাইলেও যাবে; না চাইলেও যাবে আটকিয়ে রাখা যাবে না কোনো হাতের শক্তিতে বা কোনো অজুহাতে। পুরাতনের বিদায়েই আগমন ঘটে নতুনের। আর নতুনের মাঝেই থাকে পরিকল্পনা,স্বপ্ন, আশা-ভরসা, থাকে ভালো কিছুর প্রত্যাশার দীর্ঘ ফর্দ।
সফলতা আর ব্যর্থতায় আমাদের বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব জাতী-গোষ্ঠীর মানুষ ২০২৪ সালে সর্বশেষ মাস ডিসেম্বর পার করে, নতুন বছর ২০২৫ কে স্বাগত জানাচ্ছে নতুন সালের দোর গোড়ায় দাঁড়িয়ে। এমন শেষ ও শুরুর মুহূর্তে মানুষ মাত্রই মনে প্রশ্ন জাগে কী পেলাম, হারালামই বা কী? কিংবা কী পেলাম না যার প্রত্যাশা ছিল বছরের প্রতিটি ক্ষণ জুড়ে? পাওয়া-না পাওয়ার মাঝেই জীবনধারা, সময় এবং বাস্তবতা। বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই আমরা মানবজীবন ও সমাজ-রাষ্ট্রকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই আগামীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে।
অনেক স্বপ্ন সত্যি হয় আবার অগণিত স্বপ্নের মৃত্যু হয় আঁতুড় ঘরেই। তাই বলে কি থেমে থাকে জীবন? একদমই না। জীবন তার সূচির নিয়ম আর অনিয়মের মাঝেই এগিয়ে চলে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির অমীমাংসিত হিসাবকে মেনে নিয়েই।
জীবন জুড়ে প্রাপ্তির সঙ্গেই আছে না পাওয়ার হতাশা। হতাশাকে মাড়িয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে নতুনের আহ্বানে। ‘যা চেয়েছি তা পাইনি, পেয়েছি যা চাইনি’-কে ভুলে গিয়ে দেশ-জনতার উন্নয়নে, নব উদ্যোগে-উচ্ছ্বাসে এবার বলতে চাই যা চেয়েছি তা পেয়েছি, আর যা পাইনি তা এবার পাবই এমন আশার প্রদীপ জ্বেলে।
বিশ্বের নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্যে বাংলাদেশ ২০২৪ সালটা বিশেষ ঘটনাবহুল। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিগত সরকারকে উৎখাত করে অন্তর্বতীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে নতুন উদ্যমে। নতুন বছর আমাদের প্রত্যাশাকে পূর্ণতা দিবে বলে দেশবাসী আশাবাদী।তারুণ্যের উচ্ছ্বাস আর দৃঢ় সংকল্প নবচেতনায় এগিয়ে যাবে আমার সোনার বাংলা।
নতুন বছর ২০২৫-এ আমাদের প্রত্যাশাগুলো প্রাপ্তিতে ভরে উঠুক এমন শুভ আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আমাদের প্রত্যাশা হোক জাগ্রত সামাজিক মূল্যবোধে আমাদের সবার জীবন আলোকিত হোক। বিভেদ-বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে দল-মত নির্বিশেষে গণতান্ত্রিকধারা অব্যাহত থাকুক। যেখানে মানুষগুলো বিশ্বজুড়েই অধিকার ফিরে পাক, আর যেন কোনো দেশেই লঙ্ঘিত না হয় মানবাধিকার। বিশেষ ফিলিস্তিনের মানুষগুলো তাদের অধিকার ফিরে পাক, বাঁচুক তাদের মৌলিক অধিকার নিয়ে তাদের নিজের জন্মভূমিতে।
নতুন বছরের আগমন কেবলই উৎসবের নয়, আনন্দের সঙ্গেই বিগত বছরে কর্ম পর্যালোচনা করে, ভুলকে শোধরে আগামী দিনের জন্য নতুন স্বপ্ন-সংকল্প ও নব উদ্যোগের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে বিশ্বের কল্যাণ কামনা করে নতুনভাবে শুরু করা। নব উদ্যমে শুরু হোক আমাদের জীবনে ইংরেজি নতুন বছর-২০২৫। সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক সবার জীবন এমন প্রত্যাশা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মানুষের।
#
সফিউল্লাহ আনসারী
সম্পাদক, আমারবাংলা
কবি-ছড়াকার


















